ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ: ঐতিহাসিক রাজনৈতিক রহস্য

ইসরায়েল প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল রাজনৈতিক সংকটগুলির একটি। এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে জমি, স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানবিক যন্ত্রণার এক অবিরাম চক্র। ১৯শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে শুরু হয়ে এই সংঘর্ষ আজও চলমান, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এই নিবন্ধে আমরা এই সংঘর্ষের ঐতিহাসিক পটভূমি, মূল ঘটনাবলী, রাজনৈতিক রহস্য এবং মানবিক যন্ত্রণার গভীরতা অনুসন্ধান করব। এটি শুধু ঘটনার তালিকা নয়, বরং সেই মানুষদের গল্প যারা এই সংঘর্ষের শিকার হয়ে দিনরাত যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

ঐতিহাসিক পটভূমি: জায়োনিজম এবং আরব জাতীয়তাবাদের উত্থান

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষের শিকড় ১৯শ শতাব্দীর শেষ দিকে, যখন ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন জায়োনিজমের উত্থান ঘটে। ইউরোপে ইহুদিদের উপর নির্যাতনের ফলে তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, এবং প্যালেস্টাইনকে তাদের ঐতিহাসিক ভূমি হিসেবে বেছে নেয়। ১৮৮২ সাল থেকে ইহুদি অভিবাসীরা অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ প্যালেস্টাইনে আসতে শুরু করে। একই সময়ে, অটোমান সাম্রাজ্যে আরব জাতীয়তাবাদও উত্থিত হয়, যা স্বাধীনতার দাবি করে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের বালফোর ঘোষণাপত্র প্যালেস্টাইনে একটি “ইহুদি জাতীয় গৃহ” প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা আরবদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। যুদ্ধের পর ব্রিটেন প্যালেস্টাইনের ম্যান্ডেট পায়, এবং ইহুদি অভিবাসন বাড়তে থাকে। ১৯২০, ১৯২১ এবং ১৯২৯ সালের দাঙ্গায় ইহুদি-আরব সংঘর্ষ দেখা যায়। ১৯৩৬-১৯৩৯ সালের আরব বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসন এবং জায়োনিজমের বিরুদ্ধে ছিল, কিন্তু এটি দমন করা হয়, যা প্যালেস্টাইনীয়দের দুর্বল করে।

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাব করে: একটি ইহুদি এবং একটি আরব। ইহুদি নেতারা এটি গ্রহণ করেন, কিন্তু আরবরা প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, এবং ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল তার স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আরব দেশগুলি আক্রমণ করে, কিন্তু ইসরায়েল জয়ী হয়, এবং ৭০০,০০০-এর বেশি প্যালেস্টাইনীয়রা বাস্তুচ্যুত হয়—যা ‘নাকবা’ (বিপর্যয়) নামে পরিচিত। ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের ৭৭% জমি দখল করে, এবং মিশর ও জর্ডান গাজা এবং পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করে।

এই ঘটনা প্যালেস্টাইনীয়দের জন্য একটি গভীর যন্ত্রণার শুরু। কল্পনা করুন, একটি পরিবার যারা শতাব্দী ধরে তাদের গ্রামে বাস করছিল, হঠাৎ করে বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এমন অনেক গল্প আছে যেখানে বাস্তুচ্যুত প্যালেস্টাইনীয়রা আজও তাদের পুরনো চাবি সঙ্গে রাখে, স্বপ্ন দেখে ফিরে যাওয়ার। এই যন্ত্রণা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়েছে, মানসিক আঘাত সৃষ্টি করে।

মূল ঘটনাবলী: যুদ্ধ এবং শান্তি প্রচেষ্টা

১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটে ইসরায়েল সাময়িকভাবে গাজা দখল করে। কিন্তু ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ সংঘর্ষের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইসরায়েল পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুসালেম, গাজা এবং অন্যান্য এলাকা দখল করে। এর ফলে প্যালেস্টাইনীয় অধিকৃত ভূমি শুরু হয়, যা আজও চলছে। ১৯৭৩ সালের য়োম কিপুর যুদ্ধে আরব দেশগুলি আক্রমণ করে, কিন্তু ইসরায়েল জয়ী হয়।

১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েল পিএলও (প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন) কে লক্ষ্য করে, যার ফলে পিএলও তিউনিসিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮৭-১৯৯৩ সালের প্রথম ইন্তিফাদা (উত্থান) প্যালেস্টাইনীয়দের অহিংসা এবং পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবাদ ছিল, যা অসলো চুক্তির দিকে নিয়ে যায়। ১৯৯৩ এবং ১৯৯৫ সালের অসলো চুক্তিতে প্যালেস্টাইনীয় কর্তৃপক্ষ (পিএ) গঠিত হয়, কিন্তু এটি আস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। ইসরায়েল বসতি বাড়াতে থাকে, এবং প্যালেস্টাইনীয়রা নিরাপত্তায় সহযোগিতা করে।

২০০০-২০০৫ সালের দ্বিতীয় ইন্তিফাদায় সহিংসতা বাড়ে, সুইসাইড বোম্বিং এবং ইসরায়েলী সামরিক অভিযান ঘটে। ২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে সরে যায়, কিন্তু ২০০৬ সালে হামাস নির্বাচনে জয়ী হলে ইসরায়েল গাজার অবরোধ করে। ২০০৭ সালে ফাতাহ-হামাস বিভক্ত হয়। ২০১৪ এবং ২০২১ সালের গাজা যুদ্ধে হাজার হাজার প্যালেস্টাইনীয় মারা যায়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে ১,১৯৫ ইসরায়েলী মারা যায়, এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ৫২,০০০-এর বেশি প্যালেস্টাইনীয় মারা যায়।

এই যুদ্ধগুলি মানবিক যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরে। গাজার একটি শিশু, যার বাড়ি বোমায় ধ্বংস হয়েছে, তার মায়ের মৃত্যু দেখে মানসিক আঘাত পায়। এমন অনেক গল্প আছে যেখানে শিশুরা যুদ্ধের ট্রমায় ভোগে, PTSD (পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০% প্যালেস্টাইনীয় শিশু যুদ্ধের ট্রমায় PTSD-এ আক্রান্ত।

রাজনৈতিক রহস্য: অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং গোপনীয়তা

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষে অনেক রাজনৈতিক রহস্য রয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে। একটি বড় রহস্য হলো ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলন (২০০০) এর মিথ। ইসরায়েলী নেতা ইহুদ বারাক দাবি করেন যে তিনি উদার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু য়াসির আরাফাত প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু ইসরায়েলী আলোচক এবং পণ্ডিতরা বলেন, উভয় পক্ষের যুক্তিপূর্ণ অবস্থান ছিল, এবং প্রস্তাবগুলি অস্পষ্ট ছিল। এটি একটি মিথ যা সহিংসতার জন্য প্যালেস্টাইনীয়দের দোষারোপ করে।

আরেকটি রহস্য হলো মৃত্যুর সংখ্যার অনুমান। ২০২৫ সালের ল্যানসেট এবং দ্য ইকোনমিস্টের গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজার অফিসিয়াল মৃত্যু সংখ্যা ৪৬-১০৭% কম হতে পারে, অনুমান ৭৭,০০০ থেকে ১০৯,০০০। এটি পরোক্ষ প্রভাব যেমন অপুষ্টি এবং রোগের কারণে। এই অনুমানগুলি ইসরায়েলী নীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ইসরায়েলের অধিকৃতির আইনি স্থিতি আরেক রহস্য। ২০২৪ সালে আইসিজে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস) ইসরায়েলের অধিকৃতিকে অবৈধ ঘোষণা করে, অ্যাপার্থাইড এবং জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তোলে। ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

আরব পিস ইনিশিয়েটিভ (২০০২, ২০০৭, ২০১৭) ইসরায়েলের সাথে স্বাভাবিকীকরণের প্রতিশ্রুতি দেয় ১৯৬৭ সীমান্তে প্রত্যাহারের বিনিময়ে, কিন্তু ইসরায়েল এটিকে প্রত্যাখ্যান করে। এই গোপনীয়তা এবং অমীমাংসিত প্রশ্নগুলি সংঘর্ষকে দীর্ঘায়িত করে।

এই রহস্যগুলি মানুষের যন্ত্রণা বাড়ায়। একটি প্যালেস্টাইনীয় বাবা, যার সন্তান যুদ্ধে হারিয়েছে, বলেন: “যুদ্ধ আমাদের ভিতরের সবকিছু ধ্বংস করেছে।” গাজার বাবাদের গল্পে দেখা যায়, হাজার হাজার শিশু পিতামাতা হারিয়ে ট্রমায় ভোগে।

মানবিক যন্ত্রণা: ট্রমা এবং আবেগের গল্প

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি মানবিক ট্র্যাজেডি। উভয় পক্ষের মানুষ যন্ত্রণা ভোগ করে, কিন্তু প্যালেস্টাইনীয়দের উপর প্রভাব আরও গভীর। গাজায় অবরোধের কারণে জল, বিদ্যুৎ এবং খাদ্যের অভাব, যা ২০২০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ২.১ মিলিয়ন হয়ে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব ভয়ানক। ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষে প্রজন্মান্তরে ট্রমা স্থানান্তরিত হয়। প্যালেস্টাইনীয় শিশুরা যুদ্ধের ট্রমায় PTSD এবং আবেগীয় সমস্যায় ভোগে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গাজার আক্রমণ মানসিক প্রভাব সৃষ্টি করে যা সরাসরি আক্রান্তদের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

https://youtu.be/l0HNx16T-QQ?si=1vKOl_ntRYHrMdtr

ইসরায়েলীদেরও যন্ত্রণা আছে। ৭ অক্টোবরের আক্রমণে পরিবার হারানোর গল্প হৃদয়বিদারক। একটি পরিবারের সদস্য বলেন, “আমরা মৃত্যু এবং হতাশার আলিঙ্গনে আবদ্ধ।” উভয় পক্ষের ট্রমা রাজনীতিকে প্রভাবিত করে, যেমন গাজায় গ্রীফ ইসরায়েলের তুলনায় আরও তীব্র।

ওসিএইচএ-র ৫০টি গল্পে দেখা যায়, অধিকৃতির মানবিক প্রভাব। একটি শিশু বলে: “তারা আমাদের ভিতরের সবকিছু ধ্বংস করেছে।” প্রতিবন্ধী শিশুরা বিশেষ যন্ত্রণা ভোগে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা: শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থতা

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু সাফল্য খুবই সীমিত। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরব লীগের মতো সংস্থাগুলি বিভিন্ন সময়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অসলো চুক্তি এবং আরব পিস ইনিশিয়েটিভ, প্রতিটি প্রচেষ্টাই উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের কারণে ব্যর্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যিনি ইসরায়েলের প্রধান মিত্র, প্রায়ই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু প্যালেস্টাইনীয়রা মনে করে যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতী। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের “ডিল অফ দ্য সেঞ্চুরি” প্যালেস্টাইনীয়দের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়, কারণ এটি ইসরায়েলের বসতি এবং জেরুসালেমের উপর নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেয়। এই ধরনের পক্ষপাতমূলক প্রস্তাব শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে।

জাতিসংঘের ভূমিকাও বিতর্কিত। জাতিসংঘের বিভিন্ন রেজোলিউশন, যেমন রেজোলিউশন ২৪২ এবং ৩৩৮, ১৯৬৭ সীমান্তে ফিরে যাওয়ার দাবি করে, কিন্তু ইসরায়েল এগুলো প্রত্যাখ্যান করে। জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা UNRWA প্যালেস্টাইনীয় শরণার্থীদের সাহায্য করে, কিন্তু ইসরায়েল এটিকে সমালোচনা করে, দাবি করে যে এটি সংঘর্ষকে দীর্ঘায়িত করে। এই দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে।

মানবিক সংগঠনগুলি, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইসরায়েলের অধিকৃতি এবং গাজার অবরোধকে “মানবাধিকার লঙ্ঘন” হিসেবে অভিহিত করেছে। এই সংগঠনগুলি প্যালেস্টাইনীয়দের দুর্দশার কথা তুলে ধরে, কিন্তু তাদের প্রতিবেদন প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সবই শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে।

একটি গল্প মনে পড়ে: গাজার একজন তরুণী, যিনি UNRWA-এর স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, বলেন, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আমাদের কণ্ঠ কেউ শোনে না।” এই কণ্ঠগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছায় না, যা মানুষের হতাশা বাড়ায়।

সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রভাব: বিভক্ত সমাজের গল্প

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক নয়, এটি সমাজ ও সংস্কৃতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। প্যালেস্টাইনীয় সমাজে, নাকবার পর থেকে শরণার্থী জীবন এবং অধিকৃতির প্রভাব সংস্কৃতিকে রূপান্তরিত করেছে। কবিতা, সাহিত্য এবং শিল্পে প্রতিরোধ এবং পরিচয়ের থিম প্রাধান্য পায়। প্যালেস্টাইনীয় কবি মাহমুদ দারউইশের কবিতা, যেমন “আইডেন্টিটি কার্ড,” তাদের পরিচয় এবং সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলী সমাজেও সংঘর্ষের প্রভাব স্পষ্ট। নিরাপত্তার ভয় এবং সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা তরুণ প্রজন্মের মানসিকতাকে প্রভাবিত করে। ইসরায়েলী শিল্পী এবং লেখকরা প্রায়ই শান্তি এবং সহাবস্থানের জন্য আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিভক্তি সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে।

দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রায় বন্ধ। যেসব উদ্যোগ শান্তি ও সহযোগিতার জন্য কাজ করে, যেমন “সিডস অফ পিস” বা “প্যারেন্টস সার্কেল,” তারা ছোট পরিসরে কাজ করে। এই উদ্যোগগুলি দেখায় যে সাধারণ মানুষ শান্তি চায়, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব এটিকে সমর্থন করে না।

একটি গল্প উল্লেখযোগ্য: পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে, প্যালেস্টাইনীয় এবং ইসরায়েলী শিশুরা একটি শিল্প প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করে। তারা একটি দেয়ালে শান্তির ছবি আঁকে, কিন্তু পরে সেই দেয়াল ধ্বংস করা হয়। এই ঘটনা দেখায়, সাংস্কৃতিক সেতু তৈরির চেষ্টা কতটা কঠিন।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: শান্তির পথে বাধা আশা

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষের সমাধান এখনও দূরে। দুই-রাষ্ট্র সমাধান, যা একসময় জনপ্রিয় ছিল, এখন অনেকের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়। ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ এবং প্যালেস্টাইনীয়দের বিভক্ত নেতৃত্ব এই সমাধানকে কঠিন করে তুলেছে। এক-রাষ্ট্র সমাধান, যেখানে উভয় সম্প্রদায় সমান অধিকার নিয়ে একটি রাষ্ট্রে বাস করবে, তাও বিতর্কিত, কারণ এটি ইসরায়েলের ইহুদি পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ করে।

তবুও, আশার কিছু আলো আছে। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে প্যালেস্টাইনীয় এবং ইসরায়েলী শান্তি কর্মীরা, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠ তুলে ধরছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ, যেমন আইসিজে-র রায়, ইসরায়েলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, শান্তির জন্য উভয় পক্ষের আন্তরিক ইচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন।

একটি প্যালেস্টাইনীয় তরুণ বলেন, “আমরা যুদ্ধে ক্লান্ত, আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই।” এই কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শান্তি সম্ভব, যদি মানবিকতার জয় হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি

২০২৫ সালে সংঘর্ষ চলমান, গাজায় মানবিক সংকট। আইসিজে-র রায় অধিকৃতিকে অবৈধ বলে, কিন্তু ইসরায়েল এটি প্রত্যাখ্যান করে। দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থন কমছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি চায়।

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ একটি রাজনৈতিক রহস্যের সাথে মানবিক যন্ত্রণার মিশ্রণ। শান্তির জন্য আলোচনা এবং সহমর্মিতা দরকার। এই গল্পগুলি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সংঘর্ষের পিছনে মানুষের জীবন আছে, যাদের যন্ত্রণা অবসান হওয়া উচিত।

2 thoughts on “ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ: ঐতিহাসিক রাজনৈতিক রহস্য”

  1. Pingback: মঙ্গোল সাম্রাজ্যের উত্থান: চেঙ্গিস খান কিভাবে বিশ্ব বদলে দিয়েছিলেন? - পুরাতন পথিক

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।