১৬৯২ সাল। আমেরিকার স্যালেম গ্রামের আকাশ যেন ঘন কালো মেঘে ঢাকা। বাতাসে আতঙ্ক—ঘরে ঘরে ফিসফাস, “তুমি কি জানো, অমুক আসলে ডাইনি?”
একজন কিশোরী আচমকাই চিৎকার করছে, বলছে—অদৃশ্য কোনো কিছু তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। গ্রামের লোকজন ভয় পেয়ে যায়, আর শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য শিকার—ডাইনির খোঁজ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি তারা ছিল ডাইনি? নাকি সবই ছিল এক মানসিক বিভ্রম, একটি সামাজিক পাগলামি, যার বলি হয়েছিল নিরপরাধ মানুষ?
স্যালেমের ডাইনি বিচার শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়, বরং এটি এক মানসিক ও সামাজিক রহস্য, যা আজও গবেষকদের ভাবায়।
এই ঘটনাগুলোর পেছনে কি সত্যিকারের কোনো অতিপ্রাকৃত কারণ ছিল? নাকি সবই ছিল ধর্মীয় উন্মাদনা, সামাজিক চাপ ও ভয়ভীতি থেকে জন্ম নেওয়া এক বিভ্রান্তি?
এই ব্লগে আমরা সেই ইতিহাসের পর্দা সরিয়ে খুঁজে দেখব—স্যালেমের ডাইনি বিচার: কল্পনা, না কি নির্মম সত্য?
Table of Contents
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ধর্ম, ভয়, আর এক বিভীষিকাময় গ্রাম
১৬৯২ সালের শীতকাল। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস উপনিবেশে অবস্থিত ছোট্ট এক গ্রাম—স্যালেম। গ্রামটি ছিল গভীর ধর্মবিশ্বাসে আচ্ছন্ন, যেখানে বাস করত একদল পিউরিটান খ্রিস্টান। এই সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করত, প্রতিটি দুঃখ-কষ্ট, রোগ, কিংবা দুর্যোগ আসলে ছিল ঈশ্বরের শাস্তি—আর এর পেছনে থাকত শয়তানের ষড়যন্ত্র।

এই সমাজে ধর্ম ছিল আইনের মতো কঠোর, আর “ভিন্নমত” বা “অস্বাভাবিক আচরণ” মানেই ছিল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কুসংস্কার এতটাই গভীরে ছিল যে, অনেকেই বিশ্বাস করত ডাইনিরা শয়তানের সহযোগী হিসেবে মানুষের ক্ষতি করে। আর এমন ভয় আর অবিশ্বাসের মধ্যে থেকেই জন্ম নেয় এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়।
শুরুটা হয় দুটি কিশোরীকে নিয়ে—বেটি পারিস, স্থানীয় পাদ্রী স্যামুয়েল পারিস-এর মেয়ে, আর তার চাচাতো বোন অ্যাবিগেল উইলিয়ামস। তারা হঠাৎ করেই অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করে—জোরে চিৎকার, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অদৃশ্য কিছুকে আঘাত করা, কিংবা জিভ কেটে ফেলার মতো রহস্যময় উপসর্গ দেখা দেয়।
ডাক্তাররা কোনো শারীরিক রোগ খুঁজে পাননি, বরং বলেন—এটি কোনো অলৌকিক প্রভাবের ফল। তখনি সমাজের মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে—তারা ডাইনির প্রভাবে আক্রান্ত!
এই ঘটনার রেশেই শুরু হয় ডাইনি শিকার, যে শিকার একসময় পুরো স্যালেম গ্রামকে গ্রাস করে।
⚖️ আতঙ্কের শুরু এবং বিচার প্রক্রিয়া: অভিযোগ, আতঙ্ক, আর মৃত্যুর মিছিল
বেটি পারিস ও অ্যাবিগেল উইলিয়ামসের অদ্ভুত আচরণের পরপরই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এক ভয়ঙ্কর গুজব—ডাইনিরা গ্রামে ঢুকে পড়েছে। আতঙ্কগ্রস্ত সমাজ সত্য-মিথ্যার বিচার না করেই কিশোরীদের কথাকে পরম সত্য ধরে নেয়।
তারা বলতে থাকে—“ওই নারী আমাকে জাদু করেছে”, “অমুক আমাকে স্বপ্নে শয়তানের নাম নিতে বলেছে।” আর এই বক্তব্যের ভিত্তিতেই শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান।

প্রথমে গ্রেপ্তার হয় তিন নারী—সারাহ গুড, সারাহ অসবার্ন, ও টিটুবা (এক আফ্রিকান দাসী)।
টিটুবা স্বীকার করেন যে তিনি ডাইনিবিদ্যায় জড়িত ছিলেন, এবং তার এই স্বীকারোক্তিই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে তোলে। তিনি দাবি করেন, স্যালেমে আরও অনেক ডাইনি আছে যারা শয়তানের নির্দেশে কাজ করছে।
এই “স্বীকারোক্তি” ছিল আতঙ্কের আগুনে ঘি ঢালার মতো। একের পর এক মানুষকে ডাইনি হিসেবে অভিযুক্ত করা হতে থাকে—বন্ধু, প্রতিবেশী, এমনকি আত্মীয়রাও বাদ যায়নি।
কেউ বলেছে “সে অদ্ভুত ভাবে তাকায়”, কেউ বলেছে “তার ছায়া নেই”, কিংবা “সে রাতের বেলা হাঁটে”—এমনতর অভিযোগেই মানুষ হয়ে উঠছিল মৃত্যুর প্রার্থী।
সার্বিকভাবে প্রায় ২০০ জনের বেশি নারী ও পুরুষ অভিযুক্ত হন ডাইনিবিদ্যার চর্চার জন্য।
এর মধ্যে ১৯ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং একজন—জাইলস কোরি—কে পাথর চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়, কারণ তিনি আদালতে নিজের অপরাধ ‘স্বীকার’ করতে অস্বীকার করেন।
বিচারপ্রক্রিয়া ছিল চরম পক্ষপাতদুষ্ট। অভিযোগের পেছনে কোনো বাস্তব প্রমাণ ছিল না, বরং কথিত ‘স্বপ্নদর্শন’, ‘অদৃশ্য আঘাত’, ও ‘আত্মার দেখা’—এইসব ভিত্তিহীন যুক্তি দিয়েই রায় দেওয়া হতো।
এ যেন এক মানসিক উন্মাদনার নাটক, যেখানে যুক্তি ও ন্যায়ের জায়গায় বসে ছিল ভয় ও ধর্মীয় গোঁড়ামি।
জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রক্তাক্ত অধ্যায়
🧠 কল্পনা না কি মানসিক রোগ? আধুনিক বিশ্লেষণের চোখে স্যালেম
যেখানে স্যালেমের মানুষ একসময় বিশ্বাস করত ডাইনি-আসক্তি হচ্ছে শয়তানের কাজ, আধুনিক বিজ্ঞানীরা সেখানে প্রশ্ন তুলেছেন—এই পুরো ঘটনাটি কি ছিল এক মানসিক বা জৈবিক ব্যাধির ফলাফল?

বিভিন্ন গবেষণায় প্রস্তাব করা হয়েছে এক অভিনব তত্ত্ব—আর্গট ফাঙ্গাস (Ergot Fungus) তত্ত্ব।
এই ছত্রাক দানা জাতীয় খাদ্য যেমন রাই (rye)-তে জন্মাতে পারে এবং এতে এমন একটি রাসায়নিক থাকে যার কার্যকারিতা অনেকটা LSD বা হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী ড্রাগের মতো।
সম্ভাবনা রয়েছে, স্যালেমবাসীরা সেই সময় দূষিত রাইয়ের রুটি খেয়েছিল, যা তাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছিল ভ্রম, অদ্ভুত আচরণ এবং শারীরিক খিঁচুনি—যা তারা তখন ব্যাখ্যা করেছিল “ডাইনির আক্রমণ” বলে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা হলো Mass Hysteria বা সমষ্টিগত উন্মাদনা।
একজন যখন অদ্ভুত আচরণ করে, আশপাশের মানুষও একরকম মানসিক সংক্রমণে ভুগে পড়ে—বিশ্বাস করে, তারাও আক্রান্ত। বিশেষ করে ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জর্জরিত, পুরুষতান্ত্রিক ও ভয়ভীতিপূর্ণ সমাজে এমন ঘটনা সহজেই বিস্তার লাভ করতে পারে।
কিছু গবেষক এটিকে ব্যাখ্যা করেছেন নিউরোলজিক্যাল বা মনস্তাত্ত্বিক রোগের প্রভাবে সৃষ্ট ঘটনা হিসেবে—যেমন Conversion Disorder বা Dissociative Disorder।
তাদের মতে, ওই সময়ের কিশোরীরা মানসিক চাপে এমন আচরণ করেছিল যা বাস্তবতাকে হার মানায়।
এইসব ব্যাখ্যা আমাদের বোঝায়, স্যালেমের ডাইনি বিচার হয়তো অলৌকিক কিছু ছিল না, বরং ছিল ভয়ের সমাজে বিজ্ঞানবিমুখ এক মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়।
👩🏻🦱 নারী বিদ্বেষ ও সমাজের মুখোশ: স্বাধীন নারীর জন্য শাস্তি
স্যালেমের ডাইনি বিচার শুধু ধর্মীয় উন্মাদনা বা মানসিক বিভ্রান্তির গল্প নয়—এটি ছিল নারী বিদ্বেষের নগ্ন রূপ।
১৬৯২ সালের সমাজ ছিল একেবারে পুরুষতান্ত্রিক, যেখানে নারীর পরিচয় নির্ধারিত হতো তার স্বামী, সন্তান অথবা ধর্মীয় আনুগত্য দিয়ে।
যেই নারী এ নিয়ম মানতে অস্বীকৃতি জানাতেন—হতেন সমাজের চোখে ‘বিপজ্জনক’।
আর সেই ‘বিপজ্জনক’ নারীর জন্য সহজতম তকমা ছিল—“ডাইনি“।
এই বিচারে লক্ষ্য করে দেখা যায়, যাদের উপর অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাদের অনেকেই ছিলেন—
- অবিবাহিতা নারী,
- নিঃসন্তান,
- অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর একা থাকা নারী।
এইসব নারীদের বিরুদ্ধে ডাইনিবিদ্যার অভিযোগ আনা সহজ ছিল, কারণ সমাজ তাদের আগে থেকেই ‘অসামাজিক’ ভাবত।
তাদের নিজস্ব মতামত ছিল, নিজের জমি ছিল, কিংবা হয়ত ধর্মীয় নিয়মকে প্রশ্ন করেছিলেন—এইসবই ছিল সমাজের চোখে ‘অপরাধ’।
পুরুষদের দ্বারা চালিত এই বিচারপ্রক্রিয়া ছিল এক ধরণের ভয়ের রাজনীতি, যেখানে নারীর স্বাধীনতা মানে ছিল সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
আর তাই, একজন নারী যদি স্বপ্ন দেখে নিজের জীবনকে গড়তে চায়—সেই স্বপ্নকে সমাজ জ্বালিয়ে দেয় “ডাইনি” তকমার আগুনে।
এই দমননীতি স্যালেমে থেমে গেলেও, প্রশ্ন রয়ে যায়—আজকের সমাজ কি সত্যিই মুক্ত হয়েছে এই মনোভাব থেকে?
নারী যখন নিজের কথা বলে, তখনও কি তাকে সমাজের এক ধরনের ‘ডাইনি’ ভাবা হয় না?

⚖️ বিচার ব্যবস্থার ভেঙে পড়া: যুক্তির মৃত্যু, অন্যায়ের রাজত্ব
স্যালেমের ডাইনি বিচার ছিল যুক্তির চরম অপমান—একটি সমাজ কীভাবে ভয়, গুজব আর কুসংস্কারের বশে আইনের নামে হত্যা করতে পারে, তার এক নির্মম উদাহরণ।
এই বিচারে প্রমাণের কোনো মূল্য ছিল না। কারও স্বপ্নে দেখা, কারও কথায় বলা “ও আমাকে কষ্ট দিয়েছে”—এইসব ভিত্তিহীন অভিযোগেই হয়ে যেত ফাঁসির আদেশ।
মানব ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত এই অধ্যায়ে, ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যাদের বিরুদ্ধে কোনো বাস্তব প্রমাণ ছিল না।
এটি ছিল এক গণ-উন্মাদনার বিচার, যেখানে আদালতও হয়ে উঠেছিল ধর্মীয় ও সামাজিক ভয়কে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের বিবেক জেগে ওঠে।
📜 ১৬৯৭ সালে, স্যালেম ট্রায়ালের বিচারক স্যামুয়েল সিওয়াল প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি অন্ধভাবে যে রায় দিয়েছি, তার জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।”
📜 ১৭১১ সালে, ম্যাসাচুসেটস সরকার বিচারে নিহত ও অভিযুক্তদের পরিবারদের কিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়—যা ছিল এক প্রকার ন্যায়বিচারের প্রতীক, যদিও অনেক দেরিতে।
📜 অবশেষে, বহু বছর পরে, ২০০১ সালে, মার্কিন সরকার সরকারিভাবে স্যালেমের সব অভিযুক্তকে নির্দোষ ঘোষণা করে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই স্বীকৃতি কি ফিরে দিতে পেরেছে সেই ২০টি প্রাণ, সেই শত শত মানুষের ভাঙা জীবন?
এই বিচার আমাদের শিখিয়ে গেছে—যে সমাজে যুক্তি স্তব্ধ হয়, সেখানে আইনের আসনে বসে ভয়ের রাজা।
📚 স্যালেমের উত্তরাধিকার ও সাহিত্য: ভয়কে নিয়ে লেখা ইতিহাস
স্যালেমের ডাইনি বিচার যেন কখনও ইতিহাসের পাতায় থেমে থাকেনি। বরং যুগে যুগে সাহিত্য, নাটক, সিনেমা এবং টেলিভিশনে এই ঘটনাকে নতুন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তবে আজকের দিনে, স্যালেম শুধু ডাইনিবিদ্যার প্রতীক নয়—বরং এটি ভয়ের রাজনীতি, সামাজিক বিচ্যুতি এবং অন্যায় বিচার ব্যবস্থার প্রতিফলন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
📖 Arthur Miller-এর বিখ্যাত নাটক “The Crucible” (১৯৫৩) স্যালেম ট্রায়ালের ঘটনাকে ব্যবহার করে ২০শ শতকের আমেরিকায় ম্যাকার্থিজম ও কমিউনিস্ট শিকারে সরকারের নিপীড়নকে ব্যঙ্গ করেছেন।
এই নাটকে ডাইনি শিকারের ভয়াবহতা দিয়ে দেখানো হয়েছে—কীভাবে এক অন্ধ সমাজ নিজের সন্তানদেরই গ্রাস করে।
🎥 স্যালেমের গল্প উঠে এসেছে অনেক সিনেমা ও টিভি সিরিজেও—যেমন “Salem” (TV series), “The Witch”, “Hocus Pocus”, বা “American Horror Story: Coven”—যেখানে ভয়, অতিপ্রাকৃততা ও ইতিহাস মিলে তৈরি করেছে সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র।
তবে এইসব প্রতিফলনে বারবার ফিরে আসে একটাই প্রশ্ন—ডাইনিরা কি সত্যিই ছিল? নাকি তারা ছিল সমাজের সেই মুখ, যাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল?
আজ স্যালেম নামটি যেন এক প্রতীক—স্বাধীনচেতা নারীর বিরুদ্ধে ভয়ংকর সমাজের প্রতিশোধ, আর ন্যায়বিচারের নামে অন্যায়ের গ্লানিকথা।
ইতিহাসের শিক্ষা – অতীত কি আজও ফিরে আসে?
স্যালেমের ডাইনি বিচার আমাদের এক ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়—ঘটনাগুলো ছিল একেবারে সত্য, কিন্তু যে “ডাইনি“কে কেন্দ্র করে এত প্রাণহানি ঘটেছে, সে ছিল নিছক কল্পনার সৃষ্টি।
এটি ছিল সমাজের ভেতর জমে থাকা ভয়, সন্দেহ, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও নারী বিদ্বেষের এক মারাত্মক বিস্ফোরণ।
আমরা ভাবি, এই ঘটনা তো ১৬৯২ সালের। আজকের সমাজ কি এ রকম ভয়াবহ বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত?
কিন্তু একটু চারপাশে তাকালেই দেখা যায়—আজও কেউ সমাজের নিয়ম না মানলে, প্রশ্ন করলে, কিংবা একটু “ভিন্ন” হলেই তাকে ‘ডাইনি‘র মতো একঘরে করে দেওয়া হয়।
আজ হয়তো আগুনে পোড়ানো হয় না, হয়তো ফাঁসি হয় না—কিন্তু কথার আগুনে, সামাজিক বর্জনে কিংবা অনলাইনের অপমানেই আমরা নতুন ‘ডাইনি’ তৈরি করে চলেছি।
📌 প্রশ্ন রয়ে যায়:
আমরা কি সত্যিই স্যালেম থেকে কিছু শিখেছি?
আমরা কি অন্যের ভিন্নতা মেনে নিতে শিখেছি?
নাকি এখনও সেই পুরনো ভয়ের মুখোশই পরিয়ে দিচ্ছি একে অন্যের ওপর?
👉 এই ইতিহাস আমাদের শেখায়—সচেতন না হলে ভয়, গুজব আর কুসংস্কার আবারও ফিরে আসবে নতুন রূপে।

